কেমন আছেন?

আমরা কি মানসিকভাবে "হাইজেনিক"?

যদি প্রশ্ন করা হয় সমস্যা ছাড়া জীবন কি কারো আছে? এটাই সম্ভবত একমাত্র উত্তর যেটা দুনিয়ার এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে আসলেও একইভাবে পাওয়া যাবে! দুর্ভোগের জায়গায় কোন মানুষই কখনো ছাড় পায়নি! সবার স্ট্রাগলগুলো যেন একেকটি স্বতন্ত্র গল্প! ঘটনাগুলো একে অন্যের থেকে আলাদা হলেও খারাপ লাগার জায়গায় সবাই যেন একসূত্রে মিলিত হয়ে যায়।

ধরুন আপনার শরীর খারাপ হলো আপনি ডাক্তার দেখালেন, ঔষধ খেলেন এবং সেই সাথে চললো পুষ্টিকর খাবার দাবার গ্রহণ। কিন্তু যখন সেটা মন খারাপের ক্ষেত্রে হয় সেখানে মনের উপযুক্ত "টেক কেয়ার" আর করা হয়ে ওঠে না। সামান্য জ্বর হলেও আমরা প্যারাসিটামল খেয়ে ফেলি কিন্তু মনের উপর দিয়ে নানা রকম ঝড় বয়ে যাবার পরও সেটা যেমন ছিল তেমনি ফেলে রাখা হয়!

ধীরে ধীরে দেখা যায় যেটা হয় তা হলো ইমোশনাল "হাইজিন" আস্তে আস্তে লোপ পেতে শুরু করে। অর্থাৎ পরবর্তী অন্য কোন ঘটনা আসলে সেটা একইভাবে সক্রিয় থাকতে পারে না। কারণ "ক্ষয়" তো আগে থেকেই ছিল, সেটা আর পূরণ করা হয়নি! এবং এই থিওরি তো শরীরের জন্যেও আমরা মানি। যেমন একবার কিডনির কোন ক্ষতি হলে সেটার উপর পরবর্তী আর নতুন কোনকিছুর ক্ষতি কমাতে আমরা সর্বদা সজাগ থাকি কিন্তু অদেখা মন এই সকল সুযোগ সুবিধার ভোগ থেকে একেবারেই "বঞ্চিত"!

ব্রাশ করা, গোসল করা যেমন প্রতিদিনের কাজ ঠিক তেমনি ইমোশনাল হাইজিন রক্ষা করার বিষয়টিও একটা নিয়মিত কাজের মত। একদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে সেটা যেমন মাস বা বছরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে না সেরূপভাবেই দুই একদিন একটু মনের ব্যাপারে খেয়াল নিয়ে বাকিদিন অবজ্ঞা করলে সেটাতেও ময়লা জমতে শুরু করে!

মনের এমন যত্নে শুধু যে একটা ঘটনা ঘটে গেলে সেটার রিকভারি ভালো হয় শুধু তা নয় বরং পাশাপাশিভাবে কোন এক খারাপ ঘটনায় কিজেকে কিভাবে তৈরি করে "ফার্স্ট এইড" হেল্প পাওয়া যায় সেটাও অনেকাংশে নির্ধারিত হয়।

কিভাবে আমরা নিয়মিত মনের যত্ন দিতে পারি?

- প্রথমত আমাকে মেনে নিতে হবে আমার জীবনে অস্বাচ্ছন্দ্যকর অবস্থাগুলো আসবে। সবকিছুর উপর আমার হাত থাকবে না। আমি যেটা করতে পারি সে বিষয়ে আমার নিজের মধ্য থেকে কিছু প্রচেষ্টা যা আমাকে বড়সড় "ব্রেকডাউন" থেকে রক্ষা করবে।

- নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। নিজেকে বলতে হবে খারাপ কোন অবস্থা আমি মোকাবেলা করতে পারবো এবং আমার সহ্যের বাইরে অতিরিক্ত কোন কিছু আমার ওপর চাপানো হবে না।

- নেগেটিভ চিন্তা বা ভয়গুলো একপেশে করে রাখতে হবে। "খারাপই তো হবে", "ভালো হওয়া তো সম্ভব না" নেগেটিভ এই সেল্ফ টক খারাপ সিচুয়েশনগুলোকে আরো জটিল করে দেয়।

- কোন কিছু যদি মনেহয় নিয়মিত মানসিক কষ্ট তৈরি করছে তবে সেই খারাপ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ট্রমাটিক অবস্থায় থেকে ক্ষতকে বাড়তে দেওয়া যাবে না।

- নিজের সেল্ফ এস্টিম বাড়াতে হবে। এটা শরীরের "ইম্যুনো সিস্টেম" এর মত কাজ করে। অপ্রস্তুত কোন অবস্থায় পড়ে গেলে হাই সেল্ফ এস্টিম থাকলে সেখান থেকে বের হয়ে আসাটা সহজ হয়।

- মানসিক কষ্ট এবং এর দ্বারা ক্ষতির প্রভাবগুলো বুঝতে হবে। সেই অনুযায়ী এগুলো আবার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে কাছের কেউ বা মেন্টাল হেলথ নিয়ে কাজ করে এমন কারো সাহায্য নিতে হবে।

- নিয়মিত মাইন্ডফুলনেসের চর্চা আমাদের মনের জন্য বড় "ঢাল" হয়ে কাজ করে এবং খারাপ কিছুর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

তাই মনের যত্নে এগিয়ে আসুক প্রতিটি মানুষ। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে যে হৃদয়গুলো ক্ষয়ে গিয়েছে একটু যত্নের দ্বারা নতুনকরে প্রাণ ফিরে পাক সেই সকল মনগুলো। শরীরের পাশাপাশি পরিচর্যার ভাগ পেয়ে সতেজ হোক আমাদের আত্মাগুলো!

fascinated 0 Readers
informed 0 Readers
happy 0 Readers
sad 0 Readers
angry 0 Readers
amused 0 Readers

Appointment

01763438148