কেমন আছেন?

কৃতজ্ঞতার চাবি- খুলে যাক "সুখের তালা"

ফেরিস ব্যুলার এর বিখ্যাত এক উক্তি আছে- "জীবনটা অনেক দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে। যদি তুমি না থামো এবং এক বার হলেও আশেপাশে ঘুরে না তাকাও তাহলে সেটা তুমি অবশ্যই মিস করবে"... কথার সূত্র ধরে তাই বলা যায় বয়ে চলা এই সময়কে রুখতে হয়তো আমরা পারি না কিন্তু নিজের গতির কিছু "চেক পয়েন্ট" দাঁড় করাতে তো পারি? গতিশীল ট্রেন যখন হর্নের শব্দের সাথে ছুটে চলে তখন আশেপাশের সিনারিওগুলো আমাদের চোখে ঘোলা মনে হয় এবং জার্নি শেষে ভোঁতা দৃশ্যের স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই মনে থাকে না কিন্তু এই ট্রেনই যখন স্টেশনে দাঁড়ায় তখন আমাদের দৃষ্টি পরিষ্কার হয়, আমরা আশপাশকে দেখতে শুরু করি!

তেমনি আমাদের জীবনটা যদি ট্রেন জার্নির মত হয় তাহলে সেটারও কিছু "প্লাটফর্ম" থাকা প্রয়োজন শুধুমাত্র আরেকটু স্থিতিশীলতা নিয়ে জীবনটাকে পরখ করে দেখার জন্য!

বহমানতার সাথে তাল মিলিয়ে, চোখের আড়ালে পড়ে থেকে অনেক অদ্ভুত সুন্দর কিছু মিস হয়ে যায় সেজন্য কি না জীবনের ছুড়ে দেওয়া অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো অনেক "প্রকট" হয়ে দেখা দেয়! যে চোখ মৌমাছির মধু নিতে ফুলের উপর বসে থাকার দৃশ্য দেখেনি সে চোখের কাছে ফুলের কাটাই তো অনেক কঠিন কিছু মনে হবে!

এই জীবনটাকে যখন আমরা আরো গভীরভাবে নিরীক্ষা করতে শিখবো তখন বের হয়ে আসবে এর "মায়াবী" সৌন্দর্য্য...আমরা অনুভব করতে শিখবো, স্পর্শ করতে পারবো প্রচ্ছন্ন সেই অনুভূতিগুলোকে আর তখনই সেই কৃতজ্ঞতার জায়গা আমাদের জীবনে "আশির্বাদ" হয়ে ধরা পড়বে!

"কিন্তু আমার জীবনে অনেক কষ্ট", "ঝামেলাগুলো আমার পিছু ছাড়ে না", "ভালো কিছু কখনোই আমার সাথে ঘটে না"- গ্লানিকর এই অনুভূতিগুলোকে কারাগারে বন্দী করে গ্রেটফুলনেসের পরিধি কিভাবে বাড়ানো সম্ভব?

* অনেক ক্ষেত্রে আমাদের কৃতজ্ঞতার ডায়েরিটা শুধুমাত্র "বড়" কিছুর জন্য বরাদ্দ থাকে কিন্তু আক্ষরিক অর্থে গ্র‍্যাটিচিউড কোন বড় বা ছোট বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়! আজকের আকাশটা অনেক সুন্দর কিংবা আজ বাগানে একটি দারুণ গোলাপ ফুটেছে এই ছোট ছোট বিষয়ের মাঝে কৃতজ্ঞতার অনুভূতিকে খুঁজে নেওয়া যায়!

* "আগে হ্যাপি হই তারপরে গ্রেটফুলনেস প্রকাশ করবো" এই ধারণাটি বদলে বরং হওয়া উচিৎ "যদি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাহলেই আমি হ্যাপি হবো"

* গ্র‍্যাটিটিউড চার্ট তৈরি করে ফেলুন। সারাদিনে ছোটবড় যেসকল বিষয়ের জন্য আপনি কৃতজ্ঞ সেটা এই নোটবুকে টুকে রাখুন।

* আশেপাশের মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিন। তাদের ভালো কাজের প্রশংসা করুন, ধন্যবাদ দিন। দেখবেন আপনার আশেপাশের দুনিয়া পরিবর্তন হতে শুরু করেছে!

* চ্যারিটি করুন কিংবা সেচ্ছাসেবী কাজগুলো বেছে নিন। যখন আপনি সেই অভাবগ্রস্থ বা কষ্টে জর্জরিত মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনকে দেখতে শিখবেন তখন আপনার নিজের জীবনের কষ্টগুলো তুচ্ছ মনে হবে!

* জীবনের সমস্যাগুলো আতশকাচে না দেখে বরং ভালো বিষয়গুলোকে ম্যাগনিফাই করে দেখতে হবে। তাহলে জীবনের খারাপ সময়েও নিজেকে স্বাভাবিক রাখাটা সহজ হবে।

* মাইন্ডফুলনেসের দ্বারা গ্র‍্যাটিচিউডকে প্র‍্যাকটিস করা যেতে পারে। বলা হয়ে থাকে যে ব্যক্তি টানা আট সপ্তাহ এই প্র‍্যাক্টিস করে তার মধ্যে দুশ্চিন্তা, নেগেটিভ ফিলিং রাতারাতি অন্যদের থেকে কম মনে হয়।

"life is a big challenge"...কথাটি সবার জন্যেই সমানভাবে সত্য। এই সত্যকে উপেক্ষা করে আমরা কেউ যেতে পারি না কিন্তু আমাদের ভেতরকার মনটাকে সেভাবে প্রস্তুত করতে পারি যেন সবকিছুর মাঝেও জীবনের আনন্দগুলো হারিয়ে না যায় এবং হাজার কষ্টের ভীড়েও যেন মন থেকেই বলতে পারি "তবুও ভালো আছি"!

fascinated 0 Readers
informed 0 Readers
happy 0 Readers
sad 0 Readers
angry 0 Readers
amused 0 Readers

Appointment

01763438148