কেমন আছেন?

জ্বলে উঠুন "আত্মবিশ্বাস" এর শক্তিতে

বেশ আগেভাগেই পরীক্ষার সময় জানা হয়ে গেছে। পরীক্ষা যত ঘনিয়ে আসছে ততই মনে হচ্ছে "এবারই শেষ"... মনের রেডিও তো আরো আগে থেকেই "অটো প্লে" হয়ে বসে আছে! খানেকক্ষণ পর পর রিমাইন্ডার দিয়ে যাচ্ছে "পারবো না", "হবে না".. প্রতি মুহূর্তে এসব নেগেটিভ কথার ভীড় ঠেলে "পারবো", " আমাকে দিয়ে হবে" এরা আর জায়গা করে নিতে পারছে না! পরীক্ষার দিন যখন "নকিং এ্যাট দ্যা ডোর" অবস্থা তখন তো পুরোপুরি বিশ্বাস হয়েই গেঁথে আছে "হবে তো না-ই"! শক্তপোক্তভাবে এটে যাওয়া এই বোধ থেকে প্রস্তুতিও নড়বড়ে হতে শুরু করেছে। হবে যখন না-ই তখন আর এত চেষ্টা করে কি  লাভ? ফলাফল পরীক্ষার হলে আসলেই "হয় নাই"! পরীক্ষা খারাপের শোকের সাথে খুশি একটাই, আর যাই হোক ভবিষ্যৎবাণীটা এটলিস্ট ঠিক করছিলাম!

পরীক্ষা হোক বা প্রেজেন্টেশন সিনারিও ঘুরেফিরে অনেকের ক্ষেত্রেই এমন। কেউ আবার নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস এর সাথে লড়ে সারারাত নির্ঘুম হয়ে যেটুকু প্রস্তুতি নেয় সেটাও দেখা যায় কাজে লাগছে না। আবার একই পরীক্ষার শিডিউল ও সিলেবাসে কেউ কেউ অনেক ভালো করে বসে আছে! নিজেকে তখন অন্যের সাথে তুলনা করে পুরোপুরি ব্যর্থ ভাবার নতুন আরেক দুষ্টচক্র শুরু হয়- "সবাই পারে, খালি আমিই পারি না"

কিন্তু বিষয়টা পরীক্ষার প্রস্তুতিকে ছাপিয়ে আরেকটু কি অন্যকিছু? কোথাও যেয়ে কি সবকিছুর বাইরে শুধু আত্মবিশ্বাস এর জায়গাতে একটু ফাটল দেখা দিচ্ছে? সত্যি বলতে মূল বিষয়টি আসলে এটাই!

দুনিয়ার বিখ্যাত মানুষগুলো আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে সফলতার দেখা পেয়েছেন। নানাভাবে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে ভেঙে যাওয়া এই মানুষগুলো আবার নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছেন শুধুমাত্র নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন বলে!

হেলেন কেলারের নাম আমরা কে না জানি? মাত্র দুই বছর বয়সে দৃষ্টি ও শ্রবণ শক্তি হারানো প্রথম মানবী যিনি আক্ষরিক অর্থেই বড়সড় এই লিমিটেশন সত্ত্বেও "ব্যাচেলর অফ আর্টস" ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন এবং পরিচয় পেয়েছেন একাধারে লেখক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মী হিসেবে!

ফিকশনাল বই হ্যারি পটার যেটা দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে পরিচিত আমরা কি জানি সেটা প্রকাশ করতে  জে কে রাওলিং এর কতটা লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল? প্রায় ১২ প্রকাশনী থেকে রিজেকশনের পর তিনি এই বই বাজারে আনতে সক্ষম হন! এতগুলো প্রত্যাখ্যানের পরও তিনি নিজের উপর "আর হবে না" এর দোষ চাপাননি দেখেই হ্যারি পটার এখনো সারাবিশ্বের বেস্ট সেলার বই হিসেবে জায়গা করে আছে!

কিন্তু না চাইতেও তো মনের মধ্যে নিজের প্রতি এই অবিশ্বাসগুলো ঘুরতে থাকে সেক্ষেত্রে কি করণীয়?

১) আত্মবিশ্বাসকে নানাভাবে বুস্ট আপ করা যায়। প্রথমত, নেগেটিভ সেল্ফ টককে "তালাবদ্ধ" করতে হবে। নিজেকে কখনোই "নট গুড এনাফ" বলা যাবে না!

২) "আমি পারি", "আমাকে দিয়ে সম্ভব" এসব কথাগুলো রিমাইন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতনিয়ত বলার অভ্যাস হবে। নিজের প্রতি গড়ে ওঠা আমাদের সুচিন্তাগুলোই আমাদের কাজকে প্রভাবিত করবে।

৩) অনেক প্রস্তুতির পরও জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসবে যেটার জন্য আমরা প্রস্তুত না। পরীক্ষায় সব পড়ে গেলেও কিছু প্রশ্ন থাকবে "আনকমন".. তখন শুধুমাত্র নিজের উপর ভরসার জোরেই এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা যায়।

৪) মনে রাখতে হবে আমিই আমার জাহাজের নাবিক। আমি পারি সেটাকে কন্ট্রোল করতে। নাবিকের ভয়, শংকা, অনাস্থা এগুলো যেকোন সময় জাহাজকে দিশাহীন করে তুলতে পারে!

৫) নিজের উপর আস্থা না রেখে অন্যের থেকে সেটা আশা করাটা বোকামি...কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলীর বিখ্যাত এক উক্তি আছে- "I am the greatest"... তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এই কথার ব্যাখ্যা জানতে এবং তিনি উত্তরে বলেছিলেন "আমি যদি নিজেকে এটা না বলি তবে কেউ এসে আমাকে বলে দেবে না"

অর্থাৎ আমাদের মন যখন কোনকিছুকে ধারণ করে এবং বিশ্বাস করতে শেখে তখনই কেবলমাত্র আমরা সেটা অর্জন করতে পারি...অনেক কঠিন অবস্থা রুখে দাঁড়ানোর জন্য অবশিষ্ট যখন আর কিছুই না থাকে তখন কেবলমাত্র এই আত্মবিশ্বাস একমাত্র "অস্ত্র" হয়ে সেই কঠিন সময় থেকে বের করে আনে!

fascinated 0 Readers
informed 0 Readers
happy 0 Readers
sad 0 Readers
angry 0 Readers
amused 0 Readers

Appointment

01763438148