কেমন আছেন?

মুখের কথা নাকি অন্তর্ভেদী তীর?

বিশ্বব্যাপী মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম ভাষা। বাক্যায়ন এবং শব্দচয়নের দ্বারা যেমনি সম্ভব কোনো মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরত আনা, তেমনি সম্ভব একজন মানুষের সব কিছু এলোমেলো করে দেয়া। কতটা শক্তিশালী এই শব্দ, তাই না!?

ভেবে দেখুন, প্রতিদিন অর্থ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে আমরা কতগুলো আজেবাজে মন্তব্য করে ফেলি! যাকে চিনিও না, তাকে বলে ফেলি "সে কেন এমন!?" আর আপনজনদের রাগের মাথায় এটাও বলে ফেলি - "মরে গেলেই ভালো হতো!"

কেন আমরা তো অনুমানপ্রিয়? কেন আমরা একটা কথা বলার আগে চিন্তা করি না, যে এতে সামনের মানুষটার কেমন অনুভূত হচ্ছে? কেন এত ভাবলেশহীন?

নিজেকে ঠিক সামনের মানুষটার জায়গায় রেখে দেখুন তো, একই কথা গুলো আপনাকে কেউ বললে আপনার কেমন লাগতো? ভুল হতেই পারে, কিন্তু শুধরানোর জন্য কখনোই  অপমান সঠিক মাধ্যম নয়! আপনি Euphemism ব্যবহার করতে পারেন; যার অর্থ শ্রুতিকটু শব্দের পরিবর্তে কোমলতর শব্দের প্রয়োগ। যেমন- আপনার সন্তান পরীক্ষায় একবার ফেল করার পরে আপনি বললেন "কেন তোমাকে জন্ম দিলাম!! তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার!! "অথবা বললেন "আগামীবার তোমাকে আরো বেশি পড়াশোনা করতে হবে, না হলে তোমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে না!" কোনটাতে তার বা আপনার লাভ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বলে মনে করেন?

আমাদের নিজের মুখ নিঃসৃত কটুক্তি কি আদৌ নিজেকেও সাময়িক প্রশান্তি দেয়? এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য 'ইউনিভার্সিটি অফ বৃষ্টল' এর প্রফেসর জেফ বোয়ার্স একটি গবেষণার আয়োজন করেন। যাতে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় সমার্থক বাক্য একবার কটূক্তি আকারে এবং আরেকবার তুলনামূলক শ্রুতিমধুর শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে। উভয় সময়ে তাদের 'স্ট্রেস লেভেল' পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায় অর্থ একই হওয়া সত্ত্বেও বাজে মন্তব্যের সময় প্রতিবারই তাদের নিজেদের মানসিক চাপের পরিমাণ বেশি থাকছে!

কথায় আছে, বুলি যদি নীরবতা থেকে উত্তম না হয়, তবে নীরব থাকাই ভাল; আর সেই বুলিই উত্তম যা জিহ্বা থেকে বের হয়ে হৃদয়ে প্রশান্তি দেয়। তাই আসুন কারো জীবনের সুমিষ্ট বার্তাবাহক হতে না পারলে, অন্তত কষ্টদাতা হওয়া থেকে বিরত থাকি!

fascinated 0 Readers
informed 1 Readers
happy 2 Readers
sad 0 Readers
angry 0 Readers
amused 0 Readers

Appointment

01763438148