কেমন আছেন?

সময়কে হারিয়ে যেতে দিচ্ছি না তো?

ছোটবেলার গদ বেধে মুখস্থ করা সেই বিখ্যাত লাইনের কথা মনে আছে? "সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না"? সেই বয়সে এই কথার মাহাত্ম্য আমরা আসলে কতটুকু বুঝেছিলাম সেটা না হয় আজকের আলোচনায় না থাক কিন্তু বড় বয়সে এসেও কি সেই গুরুত্বকে আমরা সবসময় ধারণ করতে পারছি? সময় যেন মাঝে মাঝে পাল্লা দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছুটে বেড়াচ্ছে সকাল থেকে রাত! কেউ হয়তো কাজের ফর্দের সাথে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে হিমশিম খাচ্ছি, কেউ আবার সময় হাতে থাকার পরও সেটাকে অবহেলায় বয়ে যেতে দিচ্ছি, কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ এই সময়কে অগুরুত্বপূর্ণ কোন জায়গায় ইনভেস্ট করছি!

সময় হচ্ছে ঠিক একটা ব্যাংকের মত যেখানে চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত এক একটি সেকেন্ড জমা হতে থাকে এবং সেটা একই সাথে ব্যয়ও হয়ে যায় অর্থাৎ একটি দিনের পুরো সময়কে যদি সেকেন্ডে হিসাব করি তাহলে আমাদের হাতে থাকে ৮৪,৬০০ সেকেন্ড! ধরুন কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় তাকে যদি এই সমপরিমাণ পয়সা দেওয়া হয় তাহলে সে সেটা থেকে কি এক পয়সাও অপচয় হতে দেবে? স্বাভাবিকভাবেই উত্তর হবে "না"! পার্থক্যটা হলো পয়সার গায়ে লেখা দৃশ্যমান নাম্বার পয়সার মান বাড়ায় কিন্তু সময়ের সাথে সেই "অদৃশ্য" প্রাইস ট্যাগ খুঁজে না পাওয়াই এর গুরুত্ব আমাদের কাছে কমে যায়!

অথচ কখনো কি ভেবে দেখেছি?

এই এক সেকেন্ডেরও ক্ষুদ্রতম ফ্র্যাকশন দিয়ে উসাইন বোল্টের অলিম্পিকের সোনার মেডেল নিশ্চিত হয়?

মুহূর্তের কোন এক সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়?

আর এজন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে "এখন" হচ্ছে সবথেকে উপযুক্ত সময়!

সময় যদি প্লেনের মত গতিশীল হয় তবে সেটার "পাইলট" হিসেবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের হাতেই থাকে।

অনেকভাবে সময় এবং কাজের ব্যালেন্স তৈরি করা যায়। এই ম্যানেজমেন্ট করার আগে সেটার উপকরণগুলোর সেট আপ করাটা প্রথমে জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

- প্রথমত লাইফে আমি কি কি অর্জন করতে চাই সেটার গোল নিয়ে একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। ফোকাস ছাড়া যখন আমরা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় মনোযোগ দেই তখন দিনশেষে কাজের আউটকাম অনেক বেশি কমে যায়।

- টাইম শিডিউল শুরুতেই খুব কঠিন করে তৈরি করা যাবে না। এই এডাপটেশন এর জন্য ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

- অবাস্তব কিছু আশা করে নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ দিলে সেটা বরং হিতে বিপরীত হবে। যেমন ধরুন সারাদিন অনলাইন লাইফে যে মাইন্ড অভ্যস্ত সেটা যদি হঠাৎ পড়াশুনা, হোমওয়ার্কে ডাইভার্ট করার কথা ভাবা হয় তাহলে সেটা অন্য মানসিক কষ্ট তৈরি করবে

- এরপরে যেটা জরুরী সেটা হলো প্রতিদিনকার জীবনের বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপশনাল কাজের একটা চার্ট করে ফেলা। সেটা ডায়েরি বা ফোনের নোটবুক যেকোন জায়গায় হতে পারে। এতে করে কাজের প্রায়োরিটি বোঝাটা বেশ সহজ হয় এবং সেই অনুযায়ী কাজগুলো করে ফেলা যায়

- সকালে ঘুম থেকে উঠে লিস্টে থাকা কাজগুলো একবার রিভিউ হয়ে যাক যা দিনের এক একটা সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট একটা ধারণা দেবে

- কাজের রুটিনে শিথিলতা বা সহজ ভাষায় "ব্রেক" থাকাটা অনেকে বেশি প্রয়োজনীয়। টাইট শিডিউল এর ফাঁকফোকড়ে "মি টাইম" একটু জায়গা করে নিক, সেটা নিজস্ব শখ পূরণ কিংবা নিরিবিলি খানেকটা চুপচাপ বসে থাকার মধ্যেও হতে পারে

- টাইম প্ল্যানিং হোক সকলকে নিয়েই। আমার পড়াশুনা, আমার জব, আমার ঘরের কাজ এগুলোর বাইরে আগমন হোক "অন্যদের" নিয়ে অংশগুলোও যা পরিবার, বন্ধু সকলের জন্য।

- মাল্টিটাস্কিং পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট কাজের জন্য বরাদ্দ থাকবে

- শিডিউল মেনে কাজ পুরোপুরি না হলেও সেটা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। একশতে যেতে না পারলেও কাজ যদি পঞ্চাশ ভাগও হয় তবুও সেটা শূন্য থেকে তো ভালো!

- টাস্ক যতটুকু সম্পন্ন করা যাবে সেটার জন্য "পুরষ্কার" রাখতে হবে, এতে করে লক্ষ্য অর্জনের আগ্রহ আরো সৃষ্টি হবে

সবশেষে মনে রাখতে হবে আমার পাওয়া সারাদিনের ২৪ ঘন্টা সময়ের চাবিকাঠি কিন্তু আমার হাতেই! সবার জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট এই সময়ের ব্যবহার দিয়েই কেউ পৃথিবীতে প্রভাবশালী হয় কেউ আবার অন্ধকারে হারিয়ে যায়। সুতরাং মালিকানার থেকে মালিকের একাগ্রতা এখানে অনেক বেশি মুখ্য!

fascinated 0 Readers
informed 0 Readers
happy 0 Readers
sad 0 Readers
angry 0 Readers
amused 0 Readers

Appointment

01763438148